সংঘর্ষের ভিডিওটি কোকাকোলা-বয়কট আন্দোলনের নয়

Published on: June 20, 2024

সম্প্রতি কোমল পানীয় কোকাকোলা’র একটি অনলাইন ভিডিও কমার্শিয়াল ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এতে করে চলমান কোকাকোলা বয়কট আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এর মাঝেই দুই পক্ষের তুমুল সংঘর্ষের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যাদের পেছনে ছিল কোকাকোলা-নামাঙ্কিত একটি দেয়াল এবং দোকান। ভিডিওটি দেখে অনেকেই মনে করছেন চলমান কোকাকোলা বয়কট আন্দোলনের প্রেক্ষিতে হামলাকারীরা দোকানটিতে হামলা চালিয়েছেন! তবে, ফ্যাক্টওয়াচ অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, আলোচিত ভিডিওটি কোকাকোলা বয়কট-সংক্রান্ত নয়। বরং, গত ০৯ নভেম্বর ২০২৩ এ বিএনপি-জামায়াতের অবরোধের প্রতিবাদে ডাকা বিক্ষোভ মিছিলে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে জড়ানোর ভিডিও এটি। ইন্টারনেট হতে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সঙ্গত কারণে ফ্যাক্টওয়াচ সামাজিক মাধ্যমে শেয়ারকৃত ভিডিওটির সাথে সংশ্লিষ্ট দাবিকে “বিভ্রান্তিকর” বলে সাব্যস্ত করছে।

 

অনুসন্ধান:

সামাজিক মাধ্যমে শেয়ারকৃত ভিডিওটিতে দৃশ্যমান কোকাকোলা’র লোগো সংবলিত একটি দোকানে হামলা চালানোর সাথে কোকাকোলা বয়কট আন্দোলনের কোন সম্পর্ক আছে কিনা সেটি যাচাই করতে আমরা উক্ত ভিডিও থেকে কিছু স্ক্রিনশট নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ পদ্ধতিতে অনুসন্ধান করি। আমাদের অনুসন্ধানে “বার্তা বাজার” অনলাইনে গত ০৯ নভেম্বর ২০২৩  প্রকাশিত “বগুড়ায় ছাত্রলীগের দু‘পক্ষের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ” – শিরোনামের একটি প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। উক্ত প্রতিবেদনের ফিচার ছবি হিসেবে যে ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে তার সাথে আলোচিত ভিডিওটির মিল রয়েছে। বার্তা বাজারের প্রতিবেদনটি পড়ে জানা গেছে, গত ০৯ নভেম্বর ২০২৩ এ বিএনপি-জামায়াতের অবরোধের প্রতিবাদে ডাকা বিক্ষোভ মিছিলে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং এতে দুই গ্রুপেরই বেশ কিছু নেতাকর্মী আহত হয়। সেদিন ঐ দুই গ্রুপের সংঘর্ষ নিয়ে বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেছিল, যেখানে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ সংঘটিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে, উক্ত সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের প্রকাশিত সংবাদের কোথাও এই সংঘর্ষকে কোকাকোলা বয়কট আন্দোলনের প্রভাব হিসেবে উল্লেখ করেনি। তাছাড়া, ঐ দুই গ্রুপের কোন নেতাকর্মীও এই সংঘর্ষকে কোকাকোলা বয়কট আন্দোলনের অংশ হিসেবে দাবি করেনি৷ এই বিষয়ে সমকাল, প্রথম আলো, আজকের পত্রিকা, ঢাকা টাইমস, এবং বিডিনিউজটুয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনগুলো উল্লেখযোগ্য। 

Credit: Barta News

এরপর আমরা প্রাসঙ্গিক কিছু কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ারকৃত আলোচিত ভিডিওটির উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। আমাদের অনুসন্ধানে দেশ টিভির অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল থেকে গত ০৯ নভেম্বর ২০২৩ এ প্রকাশিত “ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে মুহূর্তেই রণক্ষেত্র বগুড়া | Bogura News | Desh TV” – শিরোনাম সংবলিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া গেছে। উক্ত ভিডিও প্রতিবেদনটিতে দেখা গেছে, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের ক্যাম্পাসে শুরু হয়ে আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে। দেশ টিভির ভিডিও প্রতিবেদনটির একপর্যায়ে দেখা যায় হামলাকারীরা কোকাকোলা’র বিজ্ঞাপন সংবলিত একটি দোকানের দেয়ালকে পিছনে রেখে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছেন। উক্ত ভিডিওতে দৃশ্যমান দোকানের বারের অংশ এবং করিডোরের সাথে আমাদের আলোচিত ভিডিও এবং বার্তা বাজারের প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ফিচার ছবির বেশ মিল লক্ষ্য করা গেছে। দেশ টিভির ভিডিও প্রতিবেদনেও প্রতিবেদক বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে দুই পক্ষের সংঘর্ষকে আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘটিত হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া, উক্ত প্রতিবেদনে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের বক্তব্য থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই হামলা কোকাকোলা বয়কট আন্দোলনের অংশ ছিল না৷ 


দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিওকে কোকাকোলা বয়কট আন্দোলনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে শেয়ার করা কিছু ভিডিও দেখবেন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এবং এখানে

অতএব, উপরের আলোচনা থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, সামাজিক মাধ্যমে শেয়ারকৃত ভিডিওটিতে দৃশ্যমান কোকাকোলা’র লোগা-আঁকা দোকানের সামনে সংঘর্ষের সাথে কোকাকোলা বয়কট আন্দোলনের কোন সম্পর্ক নেই। বরং, সেটি বগুড়ায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মাঝে সংঘটিত সংঘর্ষের অংশ। 

সুতরাং, সবকিছু বিবেচনা করে ফ্যাক্টওয়াচ সামাজিক মাধ্যমে শেয়ারকৃত ভিডিওটির সাথে সংশ্লিষ্ট দাবিকে বিভ্রান্তিকর বলে সাব্যস্ত করছে।

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে।।
এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকেঃ
ইমেইল করুনঃ contact@factwatch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh