সম্প্রতি ফেসবুকে দুটি পৃথক ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করা হচ্ছে যে, ভারতে মুসলিম নারীদের ওপর বর্বর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভিডিও দুটির আসল ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এর সাথে সাম্প্রদায়িক কোনো সংযোগ নেই। প্রথম ভিডিওতে শিক্ষকের মারধরের শিকার হওয়া ব্যক্তিটি মূলত একজন ছাত্র যাকে লাইব্রেরিতে ঘুম থেকে জাগানো হচ্ছিল। দ্বিতীয় ভিডিওতে পুলিশের মারধরের শিকার নারী মুসলিম নন, বরং জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হেনস্থার শিকার হওয়া এক হিন্দু (দলিত) সম্প্রদায়ের নারী।
প্রথম ভিডিওটির ক্ষেত্রে, জুতা দিয়ে মারার ভিডিওটির কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এর ফলে ‘COMMANDO ACADEMY LIFE’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি আপলোড করা একটি ভিডিও পাওয়া যায়, যার সাথে ভাইরাল ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে। সেখান থেকে জানা যায় এটি ভারতের জয়পুরের একটি প্রতিরক্ষা ও পুলিশ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ভিডিও। এতে একজন শিক্ষক একজন ছাত্রকে ঘুম থেকে জাগাতে দেখা যায়। জয়পুর-ভিত্তিক একটি কোচিং ইনস্টিটিউট, কমান্ডো একাডেমি (COMMANDO ACADEMY) ছাত্রছাত্রীদের প্রতিরক্ষা ও পুলিশ বাহিনীতে ভর্তির জন্য নির্দেশনা দেয়। প্রতিষ্ঠানটির লোগোটি ভাইরাল ক্লিপটিতে থাকা লোগোটির সাথে মিলে যায়। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন ভিরাট চৌধুরী (Virat Choudhary)। ‘vcakuchamancityi’ নামের ইনস্টাগ্রাম পেজে তার পোস্ট করা একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়, যেখানে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে তিনি একজন ছাত্রকে ঘুম থেকে জাগিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “সে হরিয়ানার ছেলে… সে কি পড়ার সময়ে ঘুমাচ্ছিল? আমার কি তাকে আদর করে ‘দয়া করে ওঠো’ বলে আলতো করে জাগিয়ে দেওয়া উচিত ছিল? আমি যদি তার প্রতি নরম হতাম, সে কি আবার ঘুমিয়ে পড়ত না…?”(অনুবাদিত)
দ্বিতীয় ভিডিওটির সত্যতা জানার জন্য রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এর ফলে ‘Kumar study news‘ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওর সাথে ভাইরাল ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। সেখান থেকে জানা যায় যে, ঘটনাটি রাজস্থানের। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পুলিশ চম্পালাল মেঘওয়াল নামের এক ব্যক্তিকে তাদের গাড়িতে তুলছিল, তখন তার স্ত্রী একে থামানোর চেষ্টা করেন। এতে এএসআই বিনোদ কুমার ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্ত্রীকে ধাক্কা দেন, যার ফলে তিনি মাটিতে পড়ে যান।
এ সম্পর্কে ‘NDTV Rajasthan‘ এর ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত একটি বিবাদের তদন্ত করতে এএসআই বিনোদ কুমার মীনা এবং আরও চার পুলিশকর্মী চম্পালালের বাড়িতে আসেন। পুলিশ তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করে এবং তাদের বাড়িও ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে পুলিশ যখন চম্পালালকে গাড়িতে তুলছিল, তখন তার স্ত্রী তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। এতে এএসআই বিনোদ কুমার ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ধাক্কা দেয়, ফলে ওই নারী মাটিতে পড়ে যান। এই রিপোর্টে চম্পালাল এবং তার পরিবারকে হিন্দু (দলিত) সম্প্রদায়ের অন্তর্গত বলে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়াও ‘Dainik Bhaskar’ এর প্রতিবেদন থেকে চম্পালালের বরাতে তার পরিবারের সদস্যদের নাম পাওয়া যায়, যা হলো- দুই ভাই হনুমান ও গোপাল, স্ত্রী কিরণ এবং আত্মীয় মুকেশ। অর্থাৎ ভিডিওটিতে মূলত চম্পালালের স্ত্রী কিরণকেই মারধরের শিকার হতে দেখা যায়, যিনি মুসলিম নন, বরং তিনি হিন্দু (দলিত) সম্প্রদায়ের অন্তর্গত।
তাই সব কিছু বিবেচনা করে ফ্যাক্টওয়াচ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: সম্প্রতি ফেসবুকে দুটি পৃথক ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করা হচ্ছে যে, ভারতে মুসলিম নারীদের নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
Claimed By: Facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh