ফেসবুকে এক ব্যক্তির পায়জামার ভেতর থেকে ইয়াবা উদ্ধারের একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, তিনি চট্টগ্রামের একটি উপজেলার জামায়াতের আমির। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটিতে যেই ব্যক্তি থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হচ্ছে, তিনি মূলত টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এর আগেও ইয়াবাসহ আটক হওয়ার কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে তার এই পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। এসব প্রতিবেদনের কোথাও তার জামায়াত সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে দেশ রূপান্তর পত্রিকায় এই ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওর ব্যক্তির মিল রয়েছে।
প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ হাফেজ উল্লাহ নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকে শুক্রবার (২৪ জুলাই) গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
প্রতিবেদনটিতে গ্রেপ্তার হাফেজ উল্লাহর পরিচয় সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি টেকনাফ সদর ইউনিয়নেরর ডেইলপাড়ার বাসিন্দা ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সহসভাপতি। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে আগেই দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
একই তথ্য জানা যায় বাংলা নিউজ২৪, চ্যানেল২৪’র চট্টগ্রামভিত্তিক পেজ চট্টগ্রাম ২৪, কক্সবাজারের স্থানীয় নিউজ পোর্টাল কক্সবাজার নিউজের প্রতিবেদন থেকেও। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ২৪ এর পেইজে একই ফ্রেমের ভিডিও পাওয়া গেছে। ভিডিওটির ক্যাপশন ছিল, ‘ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা ,এখন করেন ইয়াবার ব্যবসা! পায়জামার ফিতা খুলতেই বেরিয়ে এলো সাড়ে ৪ হাজার ইয়াবা!’
এসব প্রতিবেদনের কোথাও তার জামায়াত সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ফ্যাক্টওয়াচ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: চট্টগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমিরের প্যান্টের ভেতরে করে কোটি টাকার ইয়াবা পাচার
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh