কুষ্টিয়ায় চুরির অভিযোগে আটক যুবকের ভিডিওকে হিন্দু নারী ধর্ষণের বলে প্রচার

41
কুষ্টিয়ায় চুরির অভিযোগে আটক যুবকের ভিডিওকে হিন্দু নারী ধর্ষণের বলে প্রচার
কুষ্টিয়ায় চুরির অভিযোগে আটক যুবকের ভিডিওকে হিন্দু নারী ধর্ষণের বলে প্রচার

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, “একদিকে পড়ে আছে ধর্ষিতা বোনের লাশ, অন্যদিকে নেতার হুমকি নিউজ যেন না হয়।” আবার কোনো কোনো পোস্টের ক্যাপশনে এটিকে সরাসরি “হিন্দু মেয়েকে ধর্ষণের পরে হত্যা” বলে দাবি করে বলা হচ্ছে। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ছড়িয়ে পড়া এই দাবিগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। এটি কোনো হিন্দু নারী নির্যাতন, ধর্ষণ বা হত্যার ঘটনা নয়। প্রকৃতপক্ষে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বোরকা পরে চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে আটক হওয়া ইসরাইল নামে এক যুবককে মারধর করার দৃশ্য এটি।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে। 

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানঃ 

আলোচিত ভিডিওটির প্রকৃত উৎস এবং প্রেক্ষাপট জানার জন্য এর বিভিন্ন কি-ফ্রেম ব্যবহার করে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এর ফলে ‘আপডেট কুষ্টিয়া’ নামক একটি ফেসবুক পেজে ভাইরাল ভিডিওটির অনুরূপ একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, “চো’রের ভাইয়ের বড় গলা…..!! কুষ্টিয়ায় বোরখা পড়ে চু”রি করতে গিয়ে যুবক ধরা! চোরের নিউজ করতে দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়ানে সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে চো”রের ভাই ( বিশাল নেতা এবার মেম্বারে দাঁড়াবে ) সিমারুল ইসলাম বলেন নিউজ প্রকাশ করতে হলে তার অনুমতি নিতে হবে…..!!” । এই সূত্র অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক কিছু কি-ওয়ার্ড ধরে সার্চ করে মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোতে এ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।

প্রকৃত পক্ষে, ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। ইসরাইল নামে এক যুবক বোরকা পরে সদর মন্ডল নামে একজনের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় বাড়ির সদস্য মালা খাতুন তাকে চিনে ফেলে চিৎকার দিলে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে আসেন এবং তাকে ধরে ফেলেন। বোরকা খোলার পর দেখা যায়  ব্যক্তিটি একজন পুরুষ। বোরকা পরা চোর সনাক্ত হওয়ার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দেন এবং দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন। 

যদিও এই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে যখন স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত হন, তখন আড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সিমারুল ইসলাম সংবাদ প্রকাশ না করতে সাংবাদিকদের হুমকি ও বাধা প্রদান করার অভিযোগ রয়েছে। জাগো নিউজের একটি রিপোর্টে সিমারুল ইসলামকে ইসরাইলের ভাই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলধারার সংবাদমাধ্যম কিংবা নির্ভরযোগ্য কোনো মাধ্যমে এই ঘটনার সাথে হিন্দু সম্প্রদায় বা নারী নির্যাতনের কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। 

অর্থাৎ, ফেসবুকে ছড়ানো ভিডিওটির মূল চরিত্র কোনো হিন্দু নারী নন, বরং তিনি বোরকা পরা অবস্থায় আটক হওয়া এক যুবক (ইসরাইল)। তাই সবকিছু বিবেচনা করে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সাথে সংশ্লিষ্ট দাবিকে ফ্যাক্টওয়াচ মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। 

Claim:
%seo_description%

Claimed By:
Facebook users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh