সম্প্রতি ফেসবুকে কিছু ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, রাজশাহীর এক কলেজ শিক্ষার্থী মব সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নীল পোশাক পরা এক ব্যক্তি আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছেন। তাকে ঘিরে থাকা লোকজন লাঠি ও কাঠের টুকরা দিয়ে তাকে আঘাত করছে। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, দাবিকৃত ভিডিওটি বাংলাদেশের নয় বরং গতবছর নেপালের আন্দোলনের দৃশ্য।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে, প্রথমে মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করা হয়। সার্চে রাজশাহী নিউ ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র জাহিদ হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়। ঘটনাটি নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর পাওয়া যায়। প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, জাহিদের মৃত্যু হয়েছে বিষক্রিয়ায়।
“রাজশাহীতে মদপানে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু” শিরোনামে ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ এ প্রকাশিত বিডিনিউজ২৪-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজশাহী নগরে মদপান করে অসুস্থ হয়ে এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। ২০ বছর বয়সী নিহত জাহিদ হাসান অলি রাজশাহী নিউ ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ রয়েছে, বোয়ালিয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, ‘জাহিদ নিয়মিত মদপান করতেন না। শখের বসে দুই দিন আগে বন্ধুদের সঙ্গে মদপান করেন। এরপর থেকেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।’
৩০ এপ্রিল, বাংলা ট্রিবিউনে “শখের বসে বন্ধুদের সঙ্গে মদপান করে কলেজছাত্রের মৃত্যু” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে একই ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়, জাহিদকে হাসপাতালে ভর্তির সময় চিকিৎসককে মদপানের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তার মৃত্যু সনদে অ্যালকোহলে বিষক্রিয়া লেখা আছে।
তাই ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে এর একটি কি-ফ্রেম গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। সার্চে ‘Nischal Kabita Vlog’ নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ এ প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। দাবিকৃত ভিডিওটির সাথে এই ভিডিওটির পরিবেশ, পোশাক ও ঘটনার মিল রয়েছে। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ‘গতকাল যে ডিএসপি গুলি করেছে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। #GenZ #Genzrevolution’ ।
এ সূত্রের প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে ইউটিউবে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে সংবাদমাধ্যম এবিপি লাইভের প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে “নেপালে প্রতিবাদ: ‘নেপালে আন্দোলনকারীরা উগ্র, ডিএসপিকে গুলি, পরিস্থিতি উত্তপ্ত!’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে বলা হয়, আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি করার আদেশ দেওয়ার প্রতিবাদে ডিএসপিকে (ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ) বিক্ষুব্ধ জনতা মারধর করে।
সুতরাং, সব তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাজশাহীর কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার দাবিতে নেপালের আন্দোলনের ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। তাই ফ্যাক্টওয়াচ ভিডিওগুলোকে মিথ্যা হিসাবে চিহ্নিত করেছে।
Claim: সম্প্রতি ফেসবুকে কিছু ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, রাজশাহীর এক কলেজ শিক্ষার্থী মব সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh