চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি ভারতে জাকিয়া মোল্লা (২০) নামে এক মুসলিম ছাত্রীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাকিয়ার মৃতদেহের একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয় হিন্দুত্ববাদীরা গণধর্ষণ করে মেয়েটিকে হত্যা করে একটি মন্দিরের পাশে ফেলে রাখে। কিন্তু ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তের নাম সাবির পারভেজ আহমেদ মোল্লা যাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্তের নাম থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে তিনি হিন্দু নন।
জাকিয়া মোল্লা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানার জন্য প্রাসঙ্গিক কিছু কি-ওয়ার্ড ধরে সার্চ করা হয়। এর ফলে Asianet News English এর ওয়েবসাইটে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি রিপোর্টে ফেসবুক ছড়িয়ে পড়া কোলাজটি খুঁজে পাওয়া যায়। এই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় ধারওয়াড়ের গান্ধী চকের বাসিন্দা জাকিয়া তার পড়াশোনা শেষ করে চাকরির সন্ধান করছিলেন। গত ২০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ল্যাবরেটরির কাজের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। পরদিন সকালে মনসুর রোডের একটি নির্জন ডেইরি ফার্মের কাছে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই রিপোর্টে পুলিশের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়, হত্যাকন্ডটি সাবির মোল্লা নামের এক যুবক ঘটিয়েছে। তিনি জাকিয়ার আত্মীয় এবং তার সাথে জাকিয়ার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। এই ঘটনার অভিযোগে সাবির মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই ঘটনা সম্পর্কে THE HINDU এর ওয়েবসাইটে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি রিপোর্ট পাওয়া যায়। সেখানে সাবিরের পুরো নাম সাবির পারভেজ আহমেদ মোল্লা উল্লেখ করা হয়। তিনি জাকিয়াকে হত্যা করে মৃতদেহ ফেলে দেওয়ার পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের সাথে তাকে খুঁজতে শুরু করে। একপর্যায়ে তিনি নিজে জেলা পুলিশ সুপারকে ফোন করে মৃতদেহ খুঁজে পাওয়ার খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তিনি সেখানে নির্দোষ সেজে উপস্থিত ছিলেন। তবে তার আচরণে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জেরার মুখে সাবির স্বীকার করেন যে, ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি এবং জাকিয়া বাইরে গিয়েছিলেন। সেখানে তাদের প্রস্তাবিত বিয়ে নিয়ে ঝগড়া শুরু হলে রাগের মাথায় তিনি জাকিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পুলিশ বর্তমানে সাবিরকে হেফাজতে রেখেছে এবং অপরাধে ব্যবহৃত একটি গাড়ি জব্দ করেছে। এছাড়া জাকিয়ার বাবা-মা এই ঘটনায় সাবিরের বাবারও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলায় পুলিশ সেই দিকটিও খতিয়ে দেখছে।
জাকিয়া হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হয়ে খুন হয়েছেন এই তথ্য নির্ভরযোগ্য কোনো মাধ্যম থেকে জানা যায় না। বরং অভিযুক্তের নাম থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে তিনি হিন্দু নন।
পুলিশের তদন্তে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এটি সম্পূর্ণ একটি ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক পর্যায়ের অপরাধ।
সঙ্গত কারণে ফ্যাক্টওয়াচ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
Claim: চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি ভারতে জাকিয়া মোল্লা (২০) নামে এক মুসলিম ছাত্রীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাকিয়ার মৃতদেহের একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয় হিন্দুত্ববাদীরা গণধর্ষণ করে মেয়েটিকে হত্যা করে একটি মন্দিরের পাশে ফেলে রাখে।
Claimed By: Facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh