অযোধ্যার নির্মানাধীন রাম মন্দিরের ১২ টা পিলার কি ধ্বসে পড়েছে?

গত ৩০শে ডিসেম্বর দৈনিক বার্তা, Dhaka Live সহ বেশ কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে “মসজিদের স্থানে মন্দির নির্মাণ, ধ্বসে পড়েছে ১২ টি পিলার” এবং “বাবরি মসজিদের স্থানে রাম মন্দির নির্মাণ, মন্দিদের এই পর্যন্ত ধ্বসে পড়েছে ১২ টি পিলার” শিরোনামে সংবাদ প্রচারিত হয়। মূলধারার কোনো গণমাধ্যম ‘১২টি পিলার’ ধ্বসে পড়ার কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি। উক্ত অনলাইন পোর্টালগুলোর পরিবেশিত সংবাদের বিস্তারিত অংশে ১২ টি পিলার ধ্বসে পড়ার কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তাই উক্ত শিরোনাম সংবলিত প্রতিবেদন গুলো বিভ্রান্তি ও সাম্প্রদায়িক                                                            উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। শিরোনামের সাথে সংবাদের প্রাসঙ্গিকতা না থাকায় এবং তথ্য প্রমাণের                                               অভাবে বলাই যাচ্ছে এটি একটি ভুয়া সংবাদ।

গত ৩০ ও ৩১শে ডিসেম্বর, ২০২০ ইং তারিখে উক্ত শিরোনামে সংবাদ প্রচার করে বেশ কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল। সংবাদ গুলোর শিরোনামে বলা হয়, অযোধ্যার নির্মানাধীন রাম মন্দিরের ১২ টা পিলার ধ্বসে পরেছে। উক্ত সংবাদটি ভাইরাল হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে।

দৈনিক বার্তার প্রতিবেদন

ট্রেন্ডসনিউজের প্রতিবেদন

ঢাকা লাইভের প্রতিবেদন

 

ফেসবুক লিংক

ফেসবুক লিংক

 

 

তবে ১২টি পিলারের কথা উল্লেখ না করলেও গত ২৫শে ডিসেম্বর দৈনিক যুগান্তর “রামমন্দির নির্মাণ করতে প্রাকৃতিক সমস্যা, নানা আশংকায় স্থাপত্যবিদরা” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রচার করেছে। প্রতিবেদনটি বলছে “ভারতের অযোধ্যায় বহুল আলোচিত বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণ করতে গিয়ে এবার প্রাকৃতিক বাধায় পড়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ওখানে রামমন্দির করতে গেলে ধসের আশংকা রয়েছে। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সচিবের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস”।

“মাটি পরীক্ষার পর দেখা গিয়েছে, মন্দিরের ভর ধরে রাখার মতো ক্ষমতা নেই নির্মীয়মাণ কাঠামোর। যার জেরে সমস্যায় মন্দির নির্মাণের কাজ। ফলে বিকল্প উপায় খুঁজছে ট্রাস্ট। আইআইটি, এনআইটি, সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সস্টিটিউট (রুরকি), এবং লারসেন অ্যান্ড টিউব্রোর মতো সংস্থার প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মন্দিরের প্রস্তাবিত গর্ভগৃহের পশ্চিম দিকে পানির তোড়ে বেলেমাটি ধসে যাওয়ার দরুন সমস্যার সম্মুখীন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, স্থাপত্যের নকশাকারী প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টিউব্রো জমা দিয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ২০-৪০ মিটার গভীরে ১২০০ কংক্রিট পিলার বসানো হবে।

ট্রাস্টের সচিব  চম্পত রাই বলেন, বেশ কয়েকটি পিলার ভূপৃষ্ঠ থেকে ১২৫ ফুট নিচে বসিয়ে তার ২৮ দিন পর পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেই স্তম্ভগুলির উপর ৭০০ টন ভর চাপিয়ে পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু আশাতীত ফল পাওয়া যায়নি। মেশিনে যে রিডিং পাওয়া যায় সেটা আশা করা হয়নি”।

যুগান্তরের প্রতিবেদন

 

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন

 

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন

 

উল্লেখ্য যে, মূলধারার কোনো গণমাধ্যম ‘১২টি পিলার’ ধ্বসে পড়ার কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি। উক্ত অনলাইন পোর্টালগুলোর পরিবেশিত সংবাদের বিস্তারিত অংশে ১২ টি পিলার ধ্বসে পড়ার কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তাই উক্ত শিরোনাম সংবলিত প্রতিবেদন গুলো বিভ্রান্তি ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। শিরোনামের সাথে সংবাদের প্রাসঙ্গিকতা না থাকায় এবং তথ্য প্রমাণের অভাবে বলাই যাচ্ছে এটি একটি ভুয়া সংবাদ।

 

 তথ্যসূত্র

দৈনিক বার্তার প্রতিবেদন

ট্রেন্ডসনিউজের প্রতিবেদন

ঢাকা লাইভের প্রতিবেদন

ফেসবুক লিংক এখানে ও  এখানে

যুগান্তরের প্রতিবেদন

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন

 

আপনি কি এমন কোন খবর দেখেছেন যার সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন?
কোন বিভ্রান্তিকর ছবি/ভিডিও পেয়েছেন?
নেটে ছড়িয়ে পড়া কোন গুজব কি চোখে পড়েছে?

এসবের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে জানান।
আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ fb.com/search.ulab

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *