মরণের আগে স্টিফেন হকিং কি খৃস্টধর্মে ফিরেছিলেন?

যা দাবি করা হচ্ছে: দুনিয়া জোড়া পরিচিত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং মারা যান ২০১৮ সালের মার্চের ১৪ তারিখ। সেদিনই একটি ফেসবুক পেজ দাবি করে, মরণের আগে স্টিফেন হকিং পোপের সাথে দেখা হবার কালে নিজেকে খৃস্টধর্মে বিশ্বাসী হিসাবে পরিচয় দিয়েছিলেন।

যেভাবে দাবি ছড়ালো: ১৪ মার্চ ‘ক্যাথলিকস্ অনলাইন’ নামে একটি ফেসবুক পেজ একটা পাবলিক পোস্ট দেয়। সেখানে দেখা যায় একটি ছবি, পোপের সাথে স্টিফেন হকিং-এর দেখা হবার ঘটনার ছবি সেটি। ছবির ক্যাপশনে লেখা আছে, “স্টিফেন হকিং, যিনি খোদায় বিশ্বাস করতেন না, মরণের আগে তিনি ভ্যাটিকান সফরের ফরিয়াদ করেন। পবিত্র পিতা (পোপ) হকিং-কে দোয়া করেন এবং পরে হকিং-এর একমাত্র বিবৃতি ছিল, ‘আমি এখন বিশ্বাস করি।’”

এই ছবির গোড়ার কথা: স্টিফেন হকিং জীবনের বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের কথা জানিয়েছিলেন। ২০১১ সালে গার্ডিয়ান পত্রিকাকে বলেছিলেন যে, তিনি পরকালে বিশ্বাস করেন না। ২০১০ সালে এবিসি নিউজকে বলেছিলেন, “খোদা নেই, এটি কেউ প্রমাণ করতে পারে না, কিন্তু বিজ্ঞান খোদাকে অদরকারী বানিয়ে ফেলেছে।”।

নিজের বিশ্বাস বা অবস্থান পরিবর্তনের ব্যাপারে হকিং পরে কখনো কোন স্টেটমেন্ট দেননি। ঐ ফেসবুক পোস্টের ছবিটি ২০১৬ সালের নভেম্বরের, ভ্যাটিকানে তখন পোপ ফ্রান্সিসের সাথে দেখা হয়েছিল হকিং-এর। কিন্তু ক্যাপশনে যেমন দাবি করা হয়েছে, হকিং ভ্যাটিকান সফরের ফরিয়াদ করেন নাই, তিনি ‘পন্টিফিক্যাল একাডেমী অব সায়েন্সেস’-এর একটি নির্ধারিত মিটিং-এ যোগ দিতে ভ্যাটিকানে গিয়েছিলেন।

ফেসবুক পোস্টের ঐ ছবির গোড়াও টুইটারে ‘পন্টিফিক্যাল একাডেমী অব সায়েন্সেস’-এর একটি পোস্ট। হকিং-এর মরণের পরে পন্টিফিক্যাল একাডেমী টুইটার নামের সোশ্যাল মিডিয়ায় ঐ পোস্ট দেয়। সেখানে পোপ ফ্রান্সিস বাদে আগের আরো তিন জন পোপের সাথে হকিং-এর ছবি ছিল।

স্টিফেন হকিং ঐ একাডেমীর একজন সদস্য ছিলেন, ১৯৬৮ সালে পোপ পল (ষষ্ট) হকিং-কে একাডেমীর সদস্য করেন। ‘পন্টিফিক্যাল একাডেমী অব সায়েন্সেস’ হলো ভ্যাটিকান চার্চের গড়া একটি প্রতিষ্ঠান। এটির একটা উদ্দেশ্য হিসাবে তারা নিজেদের ওয়েসাইটে জানাচ্ছে, “বিশ্বাস এবং বস্তুনিষ্ঠতার মাঝে খাতির বাড়ানো এবং বিজ্ঞানের সাথে আধ্যাত্মিকতা, সংস্কৃতি, দর্শন এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ডায়লগ ঘটানোতে উৎসাহ দেওয়া।”।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *