প্রাচীণ ইউনানি চিকিৎসাবিদ্যা এবং কাপিং থেরাপি (হিজামা) এর অকার্যকারিতা

Published on: June 2, 2022

ভারতীয় ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থা , অল্টনিউজে ২০১৯ সালে The inefficacy of Cupping Therapy (Hijaama), an ancient procedure of Unani medicine শীর্ষক এই প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয় । যেহেতু বাংলাদেশেও হিজামা এবং কাপিং একটি বহুল আলোচিত বিষয়, তাই প্রবন্ধটি এখানে বাংলায় অনুবাদ করা হল । তবে  যেসব তথ্য শুধুমাত্র ভারতের জন্য প্রাসঙ্গিক, সেই তথ্যগুলো বর্জন করা হয়েছে।

মূল প্রবন্ধটি যৌথভাবে লিখেছেন ডক্টর সুমাইয়া শেখ এবং নিখিল বারদেশকার ।  ডক্টর সুমাইয়া শেখ নিউরোফিজিওলজি নিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন অস্ট্রেলিয়ার Western Sydney University থেকে। বর্তমানে তিনি সুইডেনের Linköping University Hospital এ নিউরোসায়েন্টিস্ট হিসেবে কর্মরত আছেন। অন্যদিকে নিখিল বারদেশকার ভারতের মুম্বাই এর  ICMR-National Institute for Research in Reproductive Health এ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পর্কে তার পিএইচডি গবেষণাটি সম্পন্ন করছেন।

 

এই প্রবন্ধে আমরা ইউনানি এবং হিজামার সাথে সম্পর্কিত বহুল প্রচলিত কিছু ভ্রান্ত দাবির ব্যাপারে আলোচনা করব।  সম্পূর্ণ আলোচনাকে ৫ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১) ইউনানির উদ্ভব

২) এই ধারণা কি ইসলামে বর্ণিত চিকিৎসা ব্যবস্থা ?

৩) হিজামার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি

৪) হিজামার ঝুঁকি

৫) উপসংহার

তো, শুরু করা যাক।


) দাবি :  ইউনানি চিকিৎসা একটি  আরবীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা । এর সাথে প্রাচীন ভারতবর্ষের চিকিৎসাপদ্ধতির কোনো মিল নেই


ফ্যাক্ট চেকঃ
ইউনানি চিকিৎসায় প্রাচীন গ্রীক, আরব, পার্সিয়ান, চীনা এবং ভারতীয় প্রভাব আছে। এককভাবে একে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার চিকিৎসা বলা যায়না।
ইউনানি চিকিৎসাপদ্ধতি মতে মানবদেহে ৭টি ভাগ আছে– Arkan বা মৌলিক উপাদান, Mizaj বা প্রকৃতি, Akhlat বা ধাতুরস, Aaza বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, Arwah বা  জীবনীশক্তি, Quwa বা শক্তি, এবং Afaal বা ক্রিয়া।

এখানে,

  • Arkan হচ্ছে চারটি মৌলিক উপাদান যেমন বায়ু, মাটি, অগ্নি এবং পানি যা প্রাচীন ভারতীয় বিদ্যা থেকে প্রাপ্ত;
  • Akhlat হচ্ছে রক্ত, শ্লেষ্মা, পিত্ত এবং অম্ল, যা এসেছে হিপোক্রিটাস অব গ্রীসের জ্ঞান থেকে
  • Arwah হচ্ছে বায়বীয় সত্ত্বা (রুহ) যা ধাতুরসসমূহের সাথে কাজ করে বিভিন্ন ধরণের শক্তি (প্রাকৃতিক, অতিপ্রাকৃত এবং জীবনীশক্তি) উৎপাদন করে যা শরীরের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে সাহায্য করে। এই ধারণাটি প্রাচীন আরব জ্ঞান থেকে প্রাপ্ত।

তাই, ইউনানির আধুনিক রূপ যা ত্রয়োদশ শতকে উদ্ভব হয়েছে তা ভারতীয়, গ্রীক এবং আরব চিকিৎসাপদ্ধতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে।

হিপোক্রিটাস (বা বুরকাত, খ্রিস্টপূর্ব ৪৬০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ৩৭০) ছিলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক যার জন্ম হয় ইউনান বা গ্রীসে, তিনি রোগব্যাধির জন্য একটি যৌক্তিক এবং শারিরীক কার্যকারণের ধারণা নিয়ে আসেন৷ পরবর্তীতে রোমান শাসনামলে গ্রীক চিকিৎসক গ্যালিন (জালিনোস ১২৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে ২০০ খ্রিস্টাব্দ) এই চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করেন। চতুর্থ শতকে গ্রীক চিকিৎসা সিরিয়া এবং নেস্টোরিয়দের সাথে পারস্য পর্যন্ত ছড়িয়ে গিয়েছিল, যেখান থেকে এটি ইসলামিক সাম্রাজ্যে প্রবেশ করে। ৮ম থেকে ত্রয়োদশ শতকে ইউনানি চীনা চিকিৎসাপদ্ধতির সংস্পর্শে এসে চীনা ভেষজের গুণাগুণকে নিজের ভাণ্ডারে যুক্ত করে নেয়।

সুতরাং, প্রাচীন গ্রীস বা ইউনানে উদ্ভাবিত চিকিৎসাপদ্ধতি দার্শনিক হিপোক্রিটাস, গ্যালিন, ইবনে সিনা, পারস্যের মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া আল রাজি, চীনা ভেষজ চিকিৎসক, এবং পরবর্তীতে ভারতীয় হাকীম আব্দুল হামিদ এবং জিল্লুর রহমানের জ্ঞানের ভাণ্ডারকে একত্রিক করে উন্নত হয়েছে

) দাবি : ইউনানি চিকিৎসা মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা) এর সময়ে প্রচলিত হয়েছিল

 

ফ্যাক্ট চেকঃ ভারতে প্রচলিত ইউনানি চিকিৎসা নবীর জীবনকালে বর্তমানের রূপে প্রচলিত বা পরিচিত ছিল না৷ এমন হতে পারে যে নবী হিজামার ব্যাপারে ধর্মীয় বাণীতে উদ্ভুদ্ধ করেছেন, ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা হিসেবে নয়, বরং সমসাময়িক সময়ে প্রচলিত একমাত্র উন্নত চিকিৎসা হিসেবে।

প্রাচীন মিশরীয় তথ্যে হিজামার মত চিকিৎসার কথা উল্লেখ আছে, যা নবীর জীবনকালেরও অনেক বছর আগের রচনা (খ্রিষ্টপূর্ব ১৫৫০)। তাই, বলা চলে যে কাপিং বা হিজামার মত চিকিৎসাপদ্ধতি প্রচলিত আর হয়ত একমাত্র চিকিৎসা হিসেবে নবীর জীবনকালের পূর্বে, এবং পরেও ব্যবহৃত হত। হিজামা বা কাপিংয়ের কথা কোরআনের কোথাও উল্লেখ নেই, কিন্তু একাধিক হাদিসে আছে যা একে অপরকে সমর্থন করে। এটি বলা যায় যে নবী হিজামাকে একটি চিকিৎসা ব্যবস্থা হিসেবেই উল্লেখ করেছেন, ইসলাম সম্মত চিকিৎসা হিসেবে নয়।

ইউনানির যে রূপ বর্তমানে ভারতে এবং ভারতবর্ষে প্রচলিত আছে তা গ্রীক, পারস্য, চীনা, ভারতীয় এবং আরব্য চিকিৎসাশাস্ত্রের একটা সম্মিলিত রূপ। নবীর জীবনকালে চর্চায় থাকা ইউনানির প্রাথমিক রূপের চেয়ে বর্তমানের ইউনানি চিকিৎসা অনেক ভিন্ন।

তাই, ইউনানি এবং কাপিংকে ইসলামী চিকিৎসা বলার সত্যতা আংশিক।

কাপিং থেরাপিঃ

 

কাপিং হচ্ছে দেহরস ( humours) নিঃসরণের একটি পদ্ধতি, যা  নির্দিষ্ট আকৃতির কাপের মাধ্যমে ঋণাত্মক চাপ প্রয়োগ করে শরীর থেকে বের করে আনা হয়ে থাকে। কাপিং দুই ধরনের হতে পারে – শুষ্ক কাপিং (Dry Cupping) এবং আর্দ্র কাপিং (Wet Cupping) .  শুষ্ক কাপিং এ  আগুন কিংবা তাপ ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে আদ্র কাপিং এ  ছোট ছোট ক্ষত দিয়ে রক্ত টেনে বের করার মাধ্যমে সম্পন্ন হয় ।

আয়ুশ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে কাপিং ব্যবহার করা হয়ঃ

  • ত্বক থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করতে
  • রজঃস্রাবের আধিক্য কমাতে
  • যকৃতের রোগের উপশমে
  • ম্যালেরিয়া এবং প্লীহার রোগের চিকিৎসায়
  • অর্শরোগ, অণ্ড এবং জরায়ুর প্রদাহ, খোসপাঁচড়ার চিকিৎসা ইত্যাদিতে।

আধুনিক দেহতত্ত্বের জ্ঞানের মাধ্যমে কাপিংকে প্রদাহ, ব্যথা, রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধি, এবং কলাতন্ত্রের মর্দন পদ্ধতি ( deep-tissue massage)  বলে ন্যায্যতা দেয়ার চেষ্টা করা হয়।

) দাবি : কাপিং একটি কার্যকর চিকিৎসা

কাপিংয়ের মাধ্যমে রক্তপাত, যকৃত এবং প্লীহার রোগ, ম্যালেরিয়া বা অন্য কোনো রোগ বা প্রদাহের উপশম হয় বলে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ত্বকের উপর ঋণাত্মক বল প্রয়োগ করে কাপিং করার মাধ্যমে বহিঃত্বক, এবং শুষ্ক চামড়া তুলে ফেলা গেলেও এর চেয়ে সহজ, কার্যকর এবং নিরাপদ উপায় আছে।

বহু গবেষণায় কাপিংয়ের উপকারিতা দেখা গেছে। সৌদি আরবের এক দল গবেষক সাম্প্রতিক এক গবেষণায় কাপিংয়ের উপকারিতা হিসেবে বলেছে-

“কাপিং থেরাপি প্রয়োগের ফলে চামড়ায় রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধি, ত্বকের বায়োমেকানিকাল বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন, সহনশক্তি, স্থানীয় অবাত বিপাক (anaerobic metabolism) বৃদ্ধি, প্রদাহ হ্রাস এবং কোষীয় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার সামঞ্জস্য বৃদ্ধি দেখা গেছে”

তবে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই গবেষণাগুলোর পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে এই ফলাফলগুলো নৈর্ব্যক্তিকভাবে করা হয় নি, এবং এতে পক্ষপাতদুষ্টতা রয়েছে

এমন কয়েকটি দাবি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

৩.১: দাবি: কাপিং রক্তের প্রবাহ বাড়ায়

ফ্যাক্ট চেকঃ কাপিংয়ে প্রযুক্ত চাপের ফলে ত্বকে রক্ত প্রবাহ বাড়ে, এবং ত্বকে কিছু বায়োমেকানিকাল পরিবর্তন আসে, ব্যাপারটি সত্য।

তবে আঘাত, প্রদাহ বা ছেঁকার ক্ষেত্রে এই ব্যাপারগুলোর উপকারিতার ব্যাপারে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নি।

৩.২: দাবি: কাপিংয়ের ফলে অবাত বিপাক বাড়ে, প্রদাহ কমে, কোষীয় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং ব্যাধি কমে

ফ্যাক্ট চেকঃ অবাত বিপাক ( anaerobic metabolism)  বৃদ্ধির ফলে বিপাকীয় অম্লতা বেড়ে যায় (যেখানে শরীর অধিক পরিমাণে অম্ল জমা করতে শুরু করে) যার ফলে ব্যথার বৃদ্ধি হতে পারে। একটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে কাপিংয়ের ফলে প্রদাহ কমে এবং প্লাজমা কর্টিসলের (ক্লান্তি এবং লো ব্লাড সুগারের পরিমাপক হরমোন) পরিমাণে পরিবর্তন আসে।

তবে প্লাজমা কর্টিসল সাধারণত দিনের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন-ভিন্ন পরিমাপে থাকে, এবং অন্যান্য প্রভাবক যেমন খাদ্যাহারের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়।

শুধু কাপিংয়ের ফলে কর্টিসলের পরিমাণে পরিবর্তন আসে এমন কোনো প্রমাণ নেই।

গবেষণাটিতে এই দাবিও করা হয় যে কাপিংয়ের সাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার একটা যোগসূত্র দেখিয়েছে, যার প্রমাণ হিসেবে শ্বেত রক্তকণিকার বৃদ্ধিকে দেখানো হয়েছে ।

তবে শ্বেত রক্তকণিকার বৃদ্ধি প্রদাহ বা সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে।

তাই, এই দাবিগুলোর কোনোটাই শারীরবৃত্তীয় উন্নতির প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না, বরং শ্বেত রক্তকণিকার বৃদ্ধি সংক্রমণ বা প্রদাহের কারণে হয়ে থাকতে পারে।

৩.৩ দাবিঃ কাপিংয়ের ফলে তীব্র ব্যথা প্রশমন হয়

ফ্যাক্ট চেকঃ কয়েকটা গবেষণায় (Chi et al. 2016Kim et al. 2012 & many more) দাবি করা হয়েছে যে কাপিংয়ের ফলে দীর্ঘমেয়াদি তীব্র ব্যথা কমে।

প্রসঙ্গত , ব্যথা একটি আত্মবাদী বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, এটাকে শরীরের তাপমাত্রার মত করে মাপা যায় না।  আর এই ব্যথার অনুভূতি রোগীর চিকিৎসার প্রতি আকাঙখা দিয়ে প্রভাবিত হতে পারে।

তাই, বিকল্প চিকিৎসা ব্যথা প্রশমনে কার্যকারিতা দেখালেও এর অধিকাংশই প্লাসিবো প্রভাব (placebo effect) বা মানসিক কারণে হয়ে থাকে।

যেহেতু উপরের এই গবেষণাগুলোতে রোগীর কাছ থেকে চিকিৎসাপদ্ধতি গোপন রাখা হয় নি ( অর্থাৎ blinding করা হয়নি, যা মেডিসিন গবেষণায় একটি প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া), আমরা বলতে পারি যে এখানে রোগীদের মধ্যে আকাঙখার একটি প্রভাব রয়েছে। এছাড়াও, এসব গবেষণায় স্যাম্পল সাইজ ছোট ছিল, ইতিবাচক ফলাফলের পক্ষপাত ছিল এবং গবেষণার আন্তর্জাতিক মান মানা হয় নি। এই গবেষণার বৈজ্ঞানিক গ্রহণযোগ্যতা নেই, এবং এই গবেষণায় প্রমাণিত হয় না যে কাপিংয়ের ফলে তীব্র ব্যথা প্রশমন হয়।

কাঠামোগতভাবে সুষ্ঠু গবেষণা, রিভিউ এবং মেটা এনালাইসিসে (Cao et al. 2012, Cao et al 2010, & Lee et al. 2011) দেখা যায় যে কাপিং তীব্র ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে কার্যকর এর কোনো প্রকার প্রমাণই নেই।

) দাবি :  কাপিংয়ের কোনো নেতিবাচক প্রভাব নেই

 

ফ্যাক্ট চেকঃ কাপিং এর সাথে সংশ্লিষ্টরা যদিও দাবি করেন যে কাপিংয়ের কোনো নেতিবাচক প্রভাব নেই , কিন্তু কাপিংয়ের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ভাইরাস সংক্রমণ, আঘাত, প্রদাহ এবং ব্যথার ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়।

Kim et al. 2014 এর করা এই গবেষণায় কাপিংয়ের সাথে রক্তশূন্যতা (কাপিংয়ের ফলে রক্ত ক্ষয়ের কারণে), স্থানীয় কলা প্রদাহ (কাপিংয়ের চোষকের কারণে), হার্পিস সংক্রমন (ত্বকের কাটাছেঁড়া ও আদ্র কাপিংয়ের কারণে) এর ১৬টি ঘটনার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

আরেকটি গবেষণায় রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকের  সম্ভাব্যতার কথা বলা হয়েছে।

যে সকল কাপিংয়ের সাথে আগুন বা তাপ ব্যবহার করা হয়, সেসব কাপিং এর ক্ষেত্রে পোড়া ক্ষত অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা, কিছু কিছু ক্ষেত্রে হাসপাতাল এবং অস্ত্রোপচারও করতে হয়েছে

উপসংহার

মানবদেহসম্পর্কিত জ্ঞান সবসময় উন্নত হচ্ছে নতুন তথ্যের সাথে। প্রাচীন চিকিৎসাপদ্ধতি (যা প্রাচীন মান্ধাতার আমলের উপায়ে চিকিৎসা করে থাকে) আধুনিক সময়ে ব্যবহার করা অনেকাংশে অযৌক্তিক এবং ক্ষতিকর। ধর্মীয় কারণে এমন প্রাচীন চিকিৎসাপদ্ধতির চর্চা আরো বেশি ভয়ঙ্কর। ইউনানি এবং কাপিংয়ের চর্চা এমনই একটি উদাহরণ।

হতে পারে মহানবী (সা) এই চিকিৎসার কথা হাদীসে বলেছিলেন কারণ তার সময়কালে কাপিংই ছিল আধুনিক চিকিৎসা । তবে এটি বলা ভুল যে এটিই একমাত্র ইসলামী চিকিৎসা ব্যবস্থা। এমন দাবি মানুষের মধ্যে কাপিংয়ের প্রতি আস্থা তৈরি করবে কাপিংয়ের কার্যপদ্ধতি এবং ক্ষতিকর দিকের ব্যাপারে জানা ছাড়াই।

এছাড়াও, কাপিংয়ের নির্দিষ্ট চর্চার কোনো চিকিৎসাগত প্রমাণ নাই যে এটি কার্যকর । কাপিং এর সমর্থনে যেসব গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে , সেগুলো বিশ্ল্বেষণ করলে দেখা যায় -ইতিবাচক ফলাফল আনার জন্য এসব গবেষণায়  “পক্ষপাত” ছিল, স্যাম্পল সাইজ ছোট ছিল, গবেষণায় ব্যবহৃত রোগীদের থেকে চিকিৎসাপদ্ধতি গোপন করা হয় নি এবং আন্তর্জাতিক মানের হয় নি । আর তাই এসব গবেষণার গ্রহণযোগ্যতা ও নেই।  সঠিক চিকিৎসার পরিবর্তে রোগীদেরকে কাপিং করানো হলে  সংক্রমণ, পোড়া, প্রদাহ এবং তীব্র শারীরিক ক্ষতির দিকে নিয়ে যায় ।

—————-

হিজামা বা কাপিং বিষয়ে আরো কয়েকটি ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিবেদন এর লিঙ্ক –

১। কাপিং থেরাপি এবং অটোহেমোথেরাপি COVID-19 প্রতিরোধে কিংবা চিকিৎসায় কার্যকরী নয়। ( voxcheck )

২। কাপিং থেরাপি শরীর থেকে ভ্যাক্সিন এর উপাদানসমূহ বের করতে পারবে না । ( USA today , THIP , jagran )

৩। কাপিং এর ফলে বন্ধ্যাত্ব নিরসনের দাবি প্রমাণিত নয় ।  ( THIP )

 

 

আপনি কি এমন কোন খবর দেখেছেন যার সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন?
কোন বিভ্রান্তিকর ছবি/ভিডিও পেয়েছেন?
নেটে ছড়িয়ে পড়া কোন গুজব কি চোখে পড়েছে?

এসবের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে জানান।
আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@factwatch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh

Leave a Reply